সরকারি ব্যবস্থাপনা পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার সময় সঠিক সময় ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন যে শুধুমাত্র বেশি পড়াই সফলতার চাবিকাঠি, কিন্তু আসল কথা হলো পরিকল্পিত সময় ব্যবস্থাপনা। ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও শক্তি বুঝে প্রতিদিনের সময় টেবিল তৈরি করলে ফলাফল অনেক বেশি উন্নত হয়। আমি নিজেও যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন এই পদ্ধতি আমাকে অনেক সাহায্য করেছিল। তাই সময়ের সঠিক বণ্টন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। চলুন, নিচের অংশে এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝে নিই!
দৈনন্দিন প্রস্তুতির জন্য সময়ের সঠিক বণ্টন
পরিকল্পনার গুরুত্ব ও বাস্তবায়ন
একজন পরীক্ষার্থী হিসাবে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, শুধু বেশি পড়া নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা করাটাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিনের কাজগুলোকে ভাগ করে নেওয়া, কোন বিষয়ের জন্য কতক্ষণ সময় দিতে হবে তা নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। আমি যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন প্রথমেই একটি সময়সূচি তৈরি করতাম, যেখানে সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যার জন্য আলাদা আলাদা বিষয় নির্ধারণ করতাম। এতে করে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখতে পারতাম এবং অপ্রয়োজনীয় সময় অপচয় রোধ হতো। পরিকল্পনা ছাড়া পড়াশোনা করলে অনেক সময় এলোমেলো হয়ে যায়, যা সামগ্রিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে।
প্রতিদিনের লক্ষ্য নির্ধারণ
সঠিক সময় বণ্টনের জন্য প্রতিদিনের লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রতিদিন সকালেই আমার দিনের লক্ষ্যগুলো লিখে রাখতাম, যেমন আজ কোন অধ্যায় শেষ করতে হবে, কোন ধরনের অনুশীলন করতে হবে ইত্যাদি। এর ফলে পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং মানসিক চাপ কমে। লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ছোট ছোট সাফল্য অনুভব করা যায়, যা মোটিভেশন বাড়ায়। এছাড়া, দিনের শেষে নিজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন, যেন বুঝতে পারি কোন বিষয়ে কতটা উন্নতি হয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক সময় বণ্টন কৌশল
সব বিষয়ে সমান সময় দেওয়া সবসময় কার্যকর নয়। আমার অভিজ্ঞতায়, দুর্বল বিষয়গুলোতে একটু বেশি সময় দিতে হয়, যাতে ভালো দক্ষতা অর্জিত হয়। শক্ত বিষয়গুলোতে তুলনামূলক কম সময় দিলেও সমস্যা হয় না। প্রথমে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা যাচাই করে সময় বণ্টন করলে প্রস্তুতি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। যেমন, গণিত বিষয়ে দুর্বল হলে সেখানে অতিরিক্ত সময় দিয়ে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো উচিত। অপরদিকে, সাধারণ জ্ঞান বা ভাষার মতো বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলন করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।
বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি পদ্ধতির জন্য সময় ভাগাভাগি
তত্ত্ব ও অনুশীলনের মধ্যে ভারসাম্য
সরকারি পরীক্ষায় সফল হতে হলে তত্ত্ব ও অনুশীলনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রাখতে হয়। আমি লক্ষ্য করেছিলাম, শুধু তত্ত্ব পড়লে প্রায়শই প্রশ্নের প্রয়োগে সমস্যা হয়। তাই প্রতিদিন পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সমাধানমূলক প্রশ্নের অনুশীলন করতাম। তত্ত্ব পড়ার সময় বুঝতে চেষ্টা করতাম কিভাবে সেটি বাস্তব জীবনের পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যায়। এই পদ্ধতি আমার জন্য অনেক ফলপ্রসূ ছিল, কারণ পরীক্ষায় আসে এমন প্রশ্নগুলোর ধরন বুঝতে পারতাম এবং দ্রুত উত্তর দিতে পারতাম।
মডেল টেস্টের গুরুত্ব ও সময় বণ্টন
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মডেল টেস্ট নেওয়া খুবই কার্যকর। আমি নিজে মডেল টেস্ট নিয়েছিলাম সপ্তাহে অন্তত একবার, যাতে পরীক্ষার চাপ সামলে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। মডেল টেস্টের সময় নিজেকে পরীক্ষার পরিবেশে রাখার চেষ্টা করতাম, যাতে পরীক্ষার দিন মনোযোগ কম না হয়। মডেল টেস্ট শেষ হলে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তী প্রস্তুতিতে সেই ভুল না করার চেষ্টা করতাম। এর ফলে পরীক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধি পেত এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ত।
সময় বণ্টনে নমনীয়তা ও পুনর্মূল্যায়ন
সময় বণ্টন অবশ্যই নমনীয় হতে হবে, কারণ প্রত্যেকদিনের মনোভাব ও স্বাস্থ্য ভিন্ন হতে পারে। আমি নিজে অনেক সময় অনুভব করতাম, যে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পড়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন সাময়িক বিরতি নিয়ে পরবর্তী দিনের জন্য পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করতাম। এই নমনীয়তা আমাকে চাপমুক্ত করেছিল এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুতি বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল। সময়সূচি কখনো কঠোর নাও হতে পারে, বরং সেটি যেন ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য সময় ব্যবস্থাপনা কৌশল
বিরতি নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিরতি নেওয়া অপরিহার্য, তবে সঠিক পদ্ধতিতে। আমি লক্ষ্য করেছিলাম, প্রতি ৫০ মিনিট পড়াশোনার পর ১০-১৫ মিনিট বিরতি নিলে মনোযোগ ধরে রাখা অনেক সহজ হয়। বিরতির সময় আমি সাধারণত হালকা হাঁটা বা চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতাম, যা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করত। দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করলে মনোযোগ কমে যায় এবং ক্লান্তি বাড়ে, তাই বিরতি নেয়া উচিত। তবে বিরতি যেন অনেক দীর্ঘ না হয়, কারণ এতে পড়ার ধারা ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
পরিবেশের গুরুত্ব
আমার অভিজ্ঞতায় পড়াশোনার পরিবেশ মনোযোগ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। একটি শান্ত, ঝামেলামুক্ত পরিবেশে পড়া বেশি কার্যকর। আমি চেষ্টা করতাম এমন একটি জায়গায় পড়তে, যেখানে রোদের আলো ভালো থাকে এবং কম গোলযোগ থাকে। মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতাম, যাতে মনোযোগ ভাঙে না। পরিবেশ যদি সঠিক না হয়, তাহলে সবচেয়ে ভাল পরিকল্পনাও কাজে আসবে না। তাই ভালো পরিবেশ তৈরি করাই প্রথম ধাপ।
মনোযোগ বাড়ানোর মানসিক কৌশল
আমি নিজে বিভিন্ন মানসিক কৌশল ব্যবহার করতাম, যেমন পড়ার শুরুতে নিজেকে মোটিভেট করা, ধ্যান বা ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা। এসব কৌশল মনকে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করে। এছাড়া ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেগুলো অর্জনের পর নিজেকে পুরস্কৃত করতাম, যা মনোবল বাড়ায়। এই ধরনের মানসিক প্রস্তুতি পরীক্ষার চাপ মোকাবেলায় সহায়ক হয়।
সপ্তাহিক এবং মাসিক সময় পরিকল্পনা
সপ্তাহের ভিত্তিতে বিষয় বরাদ্দ
আমি নিজে দেখেছি, সপ্তাহিক ভিত্তিতে বিষয়গুলোকে ভাগ করে নেওয়া পড়াশোনাকে অনেক বেশি সংগঠিত করে তোলে। যেমন, সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত একটি বড় বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিতাম, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্য একটি বিষয়ে কাজ করতাম এবং শনিবার ও রবিবার রিভিশন বা মডেল টেস্ট করতাম। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি বিষয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং রিভিশনের সুযোগও মেলে। সপ্তাহিক পরিকল্পনা থাকলে মনোযোগ কম ছড়ায় এবং প্রস্তুতি ধারাবাহিক হয়।
মাসিক অগ্রগতি মূল্যায়ন
মাসিক ভিত্তিতে নিজের প্রস্তুতির অগ্রগতি যাচাই করা উচিত। আমি প্রতি মাসের শেষে নিজের পড়াশোনার গতি ও মান যাচাই করতাম এবং কোন বিষয়ে দুর্বলতা আছে তা চিহ্নিত করতাম। এরপর সেই অনুযায়ী পরবর্তী মাসের পরিকল্পনা সংশোধন করতাম। মাসিক মূল্যায়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি সফল হওয়া কঠিন। এটা আমাকে প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছিল।
সময় ব্যবস্থাপনার একটি নমুনা পরিকল্পনা
| দিন | বিষয় | সময় (ঘণ্টা) | কাজের ধরন |
|---|---|---|---|
| সোমবার-বুধবার | গণিত ও রিজনিং | ৫ | তত্ত্ব + সমস্যা সমাধান |
| বৃহস্পতিবার-শুক্রবার | সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা | ৪ | পাঠ + অনুশীলন |
| শনিবার | মডেল টেস্ট ও ভুল সংশোধন | ৩ | টেস্ট + বিশ্লেষণ |
| রবিবার | রিভিশন ও বিশ্রাম | ২-৩ | পুনরায় পড়া + বিশ্রাম |
নিজের দক্ষতা ও দুর্বলতা অনুযায়ী সময় ভাগাভাগি
দুর্বল বিষয় চিহ্নিতকরণ
আমি যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন প্রথম কাজ ছিল নিজের দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করা। দুর্বল বিষয়গুলোতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া জরুরি, কারণ এগুলোই পরীক্ষার সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নিজের দুর্বলতা বোঝার জন্য আমি নিয়মিত মডেল টেস্ট ও স্বতন্ত্র বিষয় ভিত্তিক কুইজ নিয়েছি। এর মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি কোন অংশে বেশি মনোযোগ দরকার। দুর্বলতা বুঝে সেগুলোতে ফোকাস করলে সামগ্রিক প্রস্তুতি অনেক উন্নত হয়।
দক্ষতাকে শক্তিশালী করা
শুধু দুর্বলতা নয়, নিজের শক্তিশালী বিষয়গুলোকে আরও উন্নত করাও জরুরি। আমি শক্ত বিষয়গুলোতে কম সময় দিলেও নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতাম যাতে সেগুলো থেকে ভালো নম্বর নিশ্চিত হয়। শক্ত বিষয়ে ভালো থাকা মানে মোট স্কোর বাড়ানো সহজ হয়। নিজের শক্তি বুঝে সেগুলোকে আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সময় বণ্টন নমুনা: দুর্বলতা ও শক্তি অনুসারে
| বিষয় | দুর্বল/শক্তি | প্রতিদিনের সময় (ঘণ্টা) | কর্মপদ্ধতি |
|---|---|---|---|
| গণিত | দুর্বল | ২.৫ | বেসিক কনসেপ্ট রিভিউ + সমস্যা সমাধান |
| বাংলা | শক্তি | ১.৫ | ভোকাবুলারি বৃদ্ধি + রিডিং প্র্যাকটিস |
| সাধারণ জ্ঞান | দুর্বল | ২ | নিয়মিত নিউজ আপডেট + ফ্যাক্টস রিভিউ |
| রিজনিং | শক্তি | ১ | প্যাটার্ন রিকগনিশন + কুইজ |
পরীক্ষার আগে সময়ের সঠিক ব্যবহার
রিভিশনের জন্য সময় বরাদ্দ
পরীক্ষার আগের সপ্তাহগুলোতে নতুন কিছু শেখার চেয়ে রিভিশনে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমি নিজে পরীক্ষার আগে অন্তত দুই সপ্তাহ সম্পূর্ণ রিভিশনে কাটিয়েছি, যাতে সব বিষয় পরিষ্কার মনে থাকে। রিভিশন করার সময় আমি মূল বিষয়গুলো ও গুরুত্বপূর্ণ ফর্মুলাগুলো বারবার পড়তাম এবং নোটগুলো চোখে রাখতাম। পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি যেন ঝকঝকে হয়, এজন্য রিভিশনে সময় দেওয়া অপরিহার্য।
চিন্তামুক্ত থাকার জন্য পরিকল্পনা
পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত পড়াশোনা করলে অনেক সময় মানসিক চাপ বাড়ে। আমি চেষ্টা করতাম পরীক্ষার আগের দিন বেশি পড়াশোনা না করে বিশ্রাম নিতে। ঠিক সময়ে ঘুমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও আমার প্রস্তুতিতে সাহায্য করেছিল। চিন্তামুক্ত থাকতে পারলে পরীক্ষার সময় মনোযোগ বেশি থাকে এবং ভালো ফল হয়। তাই প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার দিন ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষার দিন সকালে আমি সবকিছু আগে থেকে প্রস্তুত রাখতাম, যাতে দেরি বা অন্য কোনো ঝামেলা না হয়। সময়মতো উঠা, হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পরীক্ষার কক্ষে শান্ত মন নিয়ে প্রবেশ করা আমার রুটিন ছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময় ঠিক মতো ব্যবহার করাই সফলতার চাবিকাঠি। আমি প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করতাম, যাতে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
সফলতার জন্য সময় ব্যবস্থাপনার টিপস
নিজেকে সময় দিতে শেখা
আমি বুঝেছিলাম, শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, নিজেকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ দিতে হবে। সময়মতো বিরতি না নিলে মেধা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মনোযোগ কমে যায়। তাই পড়াশোনার মাঝে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া উচিত, যা মানসিক চাপ কমায় এবং নতুন উদ্যম নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া
আমি নিজে বিভিন্ন অ্যাপ ও অনলাইন টুল ব্যবহার করতাম, যেমন টাইমার, পরিকল্পনা অ্যাপ ইত্যাদি, যা সময় ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করেছিল। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পনা আরও সহজ ও কার্যকর হয়। তবে মোবাইল ব্যবহার সময় সীমিত রাখা উচিত, না হলে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সততা ও নিয়মিততা বজায় রাখা
সফলতার জন্য সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো নিয়মিত পড়াশোনা এবং নিজের পরিকল্পনা মেনে চলা। আমি নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেগুলো নিয়মিত পূরণ করার চেষ্টা করতাম। এতে সময় ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা আসে এবং ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়। অসততা বা অলসতা এড়িয়ে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।
স্মার্ট ওয়ার্কিং এর গুরুত্ব
শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, স্মার্ট ওয়ার্ক করাও জরুরি। আমি লক্ষ্য করেছিলাম, সময়ের সদ্ব্যবহার করে কাজ করলে কম সময়ে বেশি অর্জন সম্ভব। যেমন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগে শেষ করা, দুর্বল অংশগুলোতে বেশি ফোকাস, এবং রিভিশনে সময় বাঁচানো। স্মার্ট ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়।
글을 마치며
সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা একজন পরীক্ষার্থীর সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি। পরিকল্পনা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুতি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। সময়ের সঠিক বণ্টন মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপ কমায়। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি নিশ্চিত হয়েছি, ধৈর্য ও নমনীয়তা ছাড়া সাফল্য আসা কঠিন। তাই প্রতিদিনের সময়কে যত্নসহকারে ব্যবহার করা উচিত।
알아두면 쓸모 있는 정보
1. প্রতিদিনের জন্য স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করলে পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
2. দুর্বল বিষয়গুলোতে বেশি সময় দেওয়া উচিত, কারণ এগুলোই শেষ মুহূর্তে সমস্যা তৈরি করে।
3. বিরতি নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং মনোযোগ বাড়ায়।
4. মডেল টেস্ট নিয়মিত নেওয়া পরীক্ষার চাপ সামলাতে সাহায্য করে।
5. প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়, তবে মোবাইল ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা জরুরি।
সময় ব্যবস্থাপনার মূল কথা
পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সময়ের সঠিক বণ্টন, পরিকল্পনা, এবং নমনীয়তা অপরিহার্য। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝে কার্যকরী সময়সূচি তৈরি করতে হবে। নিয়মিত মূল্যায়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তুতি ধারাবাহিক রাখতে হবে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মনোযোগ বৃদ্ধি কৌশল অবলম্বন করা উচিত। এই সব কৌশল মিলে সফলতার পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: সরকারি ব্যবস্থাপনা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সময় ভাগ করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কী?
উ: আমার অভিজ্ঞতায়, সময় ভাগ করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো নিজের দুর্বলতা ও শক্তি বুঝে প্রতিদিন একটি বাস্তবসম্মত সময়সূচি তৈরি করা। আমি যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন প্রথমে প্রতিদিনের বিষয়ভিত্তিক লক্ষ্য ঠিক করতাম, তারপর সেই অনুযায়ী পড়াশোনার সময় ভাগ করতাম। যেমন দুর্বল বিষয়ে বেশি সময় দেওয়া এবং শক্ত বিষয়ে পুনরাবৃত্তি করা। এছাড়া বিরতি ও বিশ্রামের জন্যও সময় রাখা জরুরি, কারণ তা মনোযোগ বাড়ায় এবং ক্লান্তি কমায়।
প্র: বেশি পড়াশোনা করলেই কি সরকারি পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব?
উ: বেশিরভাগ মানুষ মনে করে শুধু বেশি পড়লে সফলতা আসবে, কিন্তু আমি নিজে দেখেছি পরিকল্পনা ও মানসম্পন্ন অধ্যয়ন ছাড়া বেশি পড়াশোনা ফলপ্রসূ হয় না। একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়লে মনোযোগ কমে যায়, তাই পরিকল্পিত বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করলে বেশি স্মরণশক্তি থাকে। সুতরাং সময়ের সঠিক বণ্টন এবং গুণগত পড়াশোনা সফলতার চাবিকাঠি।
প্র: সময় ব্যবস্থাপনার জন্য কোন টুল বা পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভালো হয়?
উ: আমি ব্যক্তিগতভাবে সময়সূচি তৈরির জন্য ক্যালেন্ডার অ্যাপ এবং টু-ডু লিস্ট ব্যবহার করেছি। এগুলো আমাকে প্রতিদিনের কাজগুলো সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া Pomodoro পদ্ধতি—২৫ মিনিট পড়াশোনা, ৫ মিনিট বিরতি—আমার জন্য খুব কার্যকর ছিল। এটা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং পড়াশোনার গুণগত মান বাড়ায়। তাই নিজের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি বেছে নিয়ে চেষ্টা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।






