সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে একটি প্রভাবশালী এবং সঠিকভাবে সাজানো রিজিউমে অপরিহার্য। বিশেষ করে, পাবলিক ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে যখন আবেদন করেন, তখন আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ছোট ছোট ভুল বা অসঙ্গতি আপনার সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। আমি নিজে যখন এই ক্ষেত্রের জন্য রিজিউমে তৈরি করেছিলাম, তখন দেখেছি কিভাবে সঠিক ফরম্যাট এবং শব্দচয়ন প্রার্থীতাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। আপনারও যদি একই সাফল্য অর্জনের ইচ্ছে থাকে, তাহলে নিচের অংশে বিস্তারিতভাবে জানব। চলুন, একসাথে বিস্তারিতভাবে বুঝে নিই!
সরকারি চাকরির জন্য রিজিউমে গঠন এবং মূল বিষয়বস্তু
রিজিউমের মূল কাঠামো ঠিক করা
সরকারি চাকরির আবেদন জমা দেওয়ার সময় রিজিউমের কাঠামো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত একটি পরিষ্কার এবং সুসংগঠিত রিজিউমে নিয়োগকর্তার প্রথম নজরে পড়ে। তাই প্রথমেই ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাগুলো স্পষ্ট ও সঠিকভাবে সাজানো উচিত। আমি যখন নিজে রিজিউমে তৈরি করছিলাম, তখন লক্ষ্য করেছিলাম, অনেক প্রার্থী তাদের তথ্য ভুল ফরম্যাটে দেয় যা নিয়োগকর্তার কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তাই হেডার, সাবহেডার এবং বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে তথ্যগুলো সাজানো খুব জরুরি।
কী তথ্য অন্তর্ভুক্ত করবেন
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, যোগাযোগের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। তবে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য যেমন জন্ম তারিখ বা পারিবারিক তথ্য খুব বেশি দেয়ার দরকার নেই যদি না নির্দিষ্টভাবে চাওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা অংশে আপনার সর্বশেষ ডিগ্রি থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রশিক্ষণ বা সনদপত্র উল্লেখ করুন। কাজের অভিজ্ঞতা অংশে আপনার দায়িত্ব, অর্জন এবং সময়কাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা দরকার।
শব্দচয়ন এবং ভাষার ব্যবহার
সরকারি চাকরির জন্য রিজিউমে প্রস্তুত করার সময় ভাষার ব্যবহার খুব সাবধানতার সাথে করতে হয়। অতিরিক্ত জটিল শব্দ বা অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো। আমার অভিজ্ঞতায়, সোজাসাপ্টা, প্রাঞ্জল এবং প্রাসঙ্গিক শব্দ ব্যবহার করলে নিয়োগকর্তার কাছে প্রার্থী আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। এছাড়া, প্রতিটি দায়িত্ব বা অর্জন বর্ণনার সময় ক্রিয়াপদের প্রয়োগ স্পষ্ট ও শক্তিশালী হওয়া উচিত, যেমন “পরিচালনা করেছি”, “উন্নত করেছি” বা “তৈরি করেছি” ইত্যাদি।
দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা উপস্থাপনার সঠিক উপায়
প্রাসঙ্গিক দক্ষতা হাইলাইট করা
সরকারি ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে আবেদন করার সময়, আপনার প্রাসঙ্গিক দক্ষতাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। যেমন কম্পিউটার দক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা। আমার দেখা হয়েছে অনেক প্রার্থী দক্ষতাগুলো অপ্রাসঙ্গিক বা অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যা নিয়োগকর্তার কাছে গুরত্বহীন মনে হতে পারে। তাই, প্রতিটি দক্ষতা সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট উদাহরণসহ উল্লেখ করা উচিত যাতে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারে আপনি বাস্তবে কী করতে পারবেন।
কাজের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণ
শুধুমাত্র কাজের শিরোনাম উল্লেখ করলেই হবে না, কাজের সময়কালে আপনি কি কি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কী অর্জন করেছেন তা বিস্তারিত বর্ণনা করা জরুরি। নিজে যখন রিজিউমে তৈরি করছিলাম, আমি দেখেছিলাম সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা ফলাফল উল্লেখ করলে নিয়োগকর্তার আগ্রহ বেড়ে যায়, যেমন “দলের কার্যকারিতা ২০% বৃদ্ধি করেছি” বা “প্রকল্পের বাজেট সফলভাবে সম্পন্ন করেছি”। এই ধরনের তথ্য আপনার দক্ষতা প্রমাণ করতে সাহায্য করে।
ভাষাগত দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ যোগ করা
সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় ভাষাগত দক্ষতা অনেক গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে বাংলা এবং ইংরেজি ছাড়াও অন্য কোনো ভাষায় দক্ষতা থাকলে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ বা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের তথ্য দিলে এটি আপনার পেশাগত উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। আমার অভিজ্ঞতায়, প্রশিক্ষণের বিস্তারিত যেমন তারিখ, বিষয়বস্তু এবং প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করলে এটি রিজিউমেকে আরও প্রফেশনাল করে তোলে।
রিজিউমে ডিজাইনে প্রভাবশালী ফরম্যাট এবং লেআউট
সোজা এবং পরিচ্ছন্ন লেআউট বেছে নেওয়া
সরকারি চাকরির জন্য রিজিউমে প্রস্তুত করার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ফরম্যাটিং। খুব বেশি জটিল ডিজাইন বা রঙ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। আমি নিজে যখন আবেদন করেছিলাম, তখন একটি সাধারণ কিন্তু প্রফেশনাল লেআউট ব্যবহার করেছিলাম যা পড়তে সহজ এবং চোখে কষ্ট দেয় না। ফন্ট সাইজ এবং স্টাইল যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, এতে নিয়োগকর্তার মনোযোগ চলে মূল তথ্যের দিকে।
স্পেসিং এবং মার্জিনের গুরুত্ব
রিজিউমের প্রতিটি অংশের মধ্যে যথেষ্ট স্পেস রাখা উচিত যাতে তথ্যগুলো ক্লাটারড না দেখায়। মার্জিন ঠিকঠাক না হলে পেজে তথ্য বেশি জমে যেতে পারে যা চোখে ভীষণ ভারি লাগে। আমার অভিজ্ঞতায়, ১ ইঞ্চি মার্জিন এবং লাইন স্পেস ১.১৫-১.৫ এর মধ্যে রাখা উচিত। এতে রিজিউমে দেখতে পরিষ্কার ও পেশাদার মনে হয়।
বুলেট পয়েন্ট এবং হেডিং ব্যবহার
প্রতিটি সেকশনে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করলে তথ্যগুলো দ্রুত পড়া এবং বোঝা সহজ হয়। আমি দেখেছি বুলেট পয়েন্ট ছাড়া বড় বড় প্যারাগ্রাফ পড়তে অনেক নিয়োগকর্তার মনোযোগ কমে যায়। হেডিং ব্যবহার করলে রিজিউমের প্রতিটি অংশ আলাদা হয়ে যায় এবং নিয়োগকর্তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।
সঠিক তথ্য যাচাই এবং সম্পাদনার কৌশল
তথ্য যাচাই এবং ভুল সংশোধন
রিজিউমে জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালো করে যাচাই করা আবশ্যক। অনেক সময় ছোট ছোট বানান ভুল বা তারিখের অসঙ্গতি আপনার আবেদনকে দুর্বল করে দিতে পারে। আমি নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কয়েকবার রিভিউ করার ফলে অনেক ভুল ধরতে পারি যা প্রথমে চোখে পড়েনি। তাই, বানান পরীক্ষক ব্যবহার করা এবং অন্য কারো কাছে পড়িয়ে নেওয়াও ভালো অভ্যাস।
অনলাইন টুলস এবং ফরম্যাট চেকার
আজকাল অনেক অনলাইন টুলস আছে যা রিজিউমের ফরম্যাট এবং বানান পরীক্ষা করতে সাহায্য করে। আমি যখন রিজিউমে তৈরি করেছিলাম, গুগল ডকসের বানান পরীক্ষা এবং হিউমেন রিভিউ দুটোই ব্যবহার করেছিলাম। এতে ভুল কমে এবং রিজিউমে আরো প্রফেশনাল হয়।
বন্ধু বা পরামর্শদাতার মতামত নেওয়া
নিজে যতই ভালো মনে করি, একজন বাইরের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার প্রিয় সহকর্মী এবং শিক্ষককে আমার রিজিউমে দেখিয়েছিলাম, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু শব্দ পরিবর্তন এবং বিন্যাসে পরিবর্তন করেছিলাম। এতে আমার আবেদন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল।
সরকারি চাকরির রিজিউমেতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার তুলনা
| দক্ষতা/অভিজ্ঞতা | বর্ণনা | কেন প্রয়োজন |
|---|---|---|
| প্রশাসনিক দক্ষতা | দল পরিচালনা, অফিস ব্যবস্থাপনা, সময় ব্যবস্থাপনা | সরকারি কাজে সুষ্ঠু কার্যক্রম চালানোর জন্য অপরিহার্য |
| যোগাযোগ দক্ষতা | লিখিত ও মৌখিক দক্ষতা, প্রতিবেদন প্রস্তুতি | স্পষ্ট ও কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ |
| কম্পিউটার দক্ষতা | মাইক্রোসফট অফিস, ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা, ইমেইল পরিচালনা | বর্তমান সময়ে অফিসিয়াল কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য |
| সমস্যা সমাধান ক্ষমতা | তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যা বিশ্লেষণ | চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতা বৃদ্ধি করে |
| ভাষাগত দক্ষতা | বাংলা, ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা | বহুভাষিক পরিবেশে কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করে |
আবেদন ফলো-আপ এবং ইন্টারভিউ প্রস্তুতির জন্য রিজিউমে ব্যবহার
আবেদন জমা দেওয়ার পর ফলো-আপ কৌশল
রিজিউমে পাঠানোর পর নিয়মিত ফলো-আপ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন আবেদন করেছিলাম, ৭-১০ দিনের মধ্যে ইমেইল বা ফোনের মাধ্যমে আবেদন স্থিতি সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেছিলাম। এতে নিয়োগকর্তার মনে হয় আপনি আগ্রহী এবং পেশাদার। তবে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়, কারণ তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইন্টারভিউয়ের জন্য রিজিউমে প্রস্তুতি
ইন্টারভিউতে রিজিউমে একটি গাইড হিসেবে কাজ করে। আপনাকে আপনার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং অর্জনগুলো স্পষ্টভাবে বলতে হবে যা রিজিউমেতে উল্লেখ করা হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতায়, রিজিউমে লেখা প্রতিটি পয়েন্টের ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখা ভাল যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দেওয়া যায়।
রিজিউমে আপডেট রাখার নিয়ম
প্রতিটি আবেদন বা ইন্টারভিউয়ের আগে রিজিউমে আপডেট করা জরুরি। নতুন দক্ষতা, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা যুক্ত করতে হবে যাতে সর্বদা সর্বশেষ তথ্য থাকে। আমি নিজে নিয়মিত মাসে একবার রিজিউমে রিভিউ করি এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করি, যা আমাকে সবসময় প্রস্তুত রাখে।
রিজিউমে থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলার বিশেষ টিপস
কাস্টমাইজড রিজিউমে তৈরি করা
প্রতিটি সরকারি চাকরির জন্য একই রিজিউমে ব্যবহার না করে, সংশ্লিষ্ট পদ অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা উচিত। আমি যখন বিভিন্ন পদে আবেদন করতাম, প্রতিটি রিজিউমেতে সংশ্লিষ্ট দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা আলাদা করে তুলে ধরতাম। এতে নিয়োগকর্তার কাছে আপনার প্রোফাইল আরও প্রাসঙ্গিক মনে হয়।
সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী সারাংশ লেখা
রিজিউমের শুরুতেই সংক্ষিপ্ত এক সারাংশ বা প্রোফাইল বর্ণনা থাকা উচিত যা আপনার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং লক্ষ্যকে তুলে ধরে। আমার মনে হয়, এটি নিয়োগকর্তার মনোযোগ আকর্ষণ করার একটি শক্তিশালী উপায়।
পরিসংখ্যান এবং ফলাফল যুক্ত করা
কোনো কাজের ফলাফল বা উন্নয়নের পরিসংখ্যান উল্লেখ করলে রিজিউমের মান বৃদ্ধি পায়। আমি নিজে আমার কাজের ফলে অর্জিত ফলাফলগুলো সংখ্যায় দেখিয়েছি যা নিয়োগকর্তার কাছে প্রমাণস্বরূপ কাজ করে।
রিজিউমে তৈরি করার সময় সাধারণ ভুল এবং তাদের প্রতিকার

অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা
অনেক প্রার্থী রিজিউমেতে অতিরিক্ত তথ্য দেয় যা আসলে প্রয়োজন হয় না। আমি নিজে লক্ষ্য করেছি, সংক্ষিপ্ত এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য দিলে নিয়োগকর্তার কাছে রিজিউমে বেশি আকর্ষণীয় হয়।
ভুল বানান ও ব্যাকরণ পরিহার
ভুল বানান বা ব্যাকরণ রিজিউমের প্রফেশনালিজমকে কমিয়ে দেয়। নিজের রিজিউমে বারবার পড়ে দেখুন এবং বানান পরীক্ষক ব্যবহার করুন।
অনুপযুক্ত ফন্ট ও রঙ ব্যবহার না করা
সরকারি চাকরির জন্য সাধারণত সাদা পটভূমি এবং কালো ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। খুব উজ্জ্বল বা অসংগত রঙ ব্যবহারে নিয়োগকর্তার মনোযোগ হারাতে পারে। আমি নিজে এই বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।
রিজিউমে জমা দেওয়ার পরে করণীয় ও মনোযোগের বিষয়
নিয়মিত যোগাযোগ রাখা
রিজিউমে পাঠানোর পর নিয়মিত যোগাযোগ রাখা উচিত, তবে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে। আমি প্রায়শই ১-২ সপ্তাহ পর ফোন বা ইমেইল দিয়ে আবেদন স্থিতি সম্পর্কে জানতে চাই।
সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া
রিজিউমেতে উল্লেখিত প্রতিটি পয়েন্টের ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখুন। আমি নিজে সাক্ষাৎকারের আগে নিজের রিজিউমে একাধিকবার পড়ে যাচাই করতাম।
বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখা
যদি প্রথম আবেদন সফল না হয়, তাহলে দ্রুত নতুন রিজিউমে তৈরি করে অন্য সুযোগে আবেদন করা দরকার। আমি নিজে এই পদ্ধতিতে সফল হয়েছি, যেখানে ব্যর্থতা আমাকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করেছে।
글을 마치며
সরকারি চাকরির জন্য একটি ভালো রিজিউমে তৈরি করা আপনার সফলতার প্রথম ধাপ। সঠিক গঠন, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করে আপনি নিয়োগকর্তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন। নিয়মিত রিভিউ এবং আপডেট রাখা আপনার আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। সর্বোপরি, ধৈর্য্য এবং পরিশ্রম দিয়ে প্রস্তুতি নিলে ফলাফল ভালো হবে।
알아두면 쓸모 있는 정보
1. রিজিউমেতে শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক তথ্য দিন, অতিরিক্ত তথ্য এড়িয়ে চলুন।
2. বানান ও ব্যাকরণ ঠিক আছে কিনা বারবার যাচাই করুন, প্রফেশনালিজম বজায় রাখার জন্য।
3. স্পষ্ট এবং সহজবোধ্য ভাষায় আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন।
4. আবেদন জমা দেওয়ার পর নিয়মিত কিন্তু অতিরিক্ত না হয়ে ফলো-আপ করুন।
5. প্রতিটি আবেদন অনুযায়ী রিজিউমে কাস্টমাইজ করুন যাতে প্রোফাইলটি প্রাসঙ্গিক হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে
সরকারি চাকরির জন্য রিজিউমে তৈরিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সঠিক কাঠামো এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যের ওপর। স্পষ্ট ভাষা ও শক্তিশালী শব্দচয়ন নিয়োগকর্তার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। ডিজাইন ও ফরম্যাটিং এ সরলতা বজায় রাখা জরুরি যাতে পড়তে সুবিধা হয়। তথ্য যাচাই ও বন্ধু বা পরামর্শদাতার মতামত গ্রহণ করলে ভুল কমে। সবশেষে, নিয়মিত রিজিউমে আপডেট ও ফলো-আপের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: সরকারি চাকরির জন্য রিজিউমে তৈরিতে কোন তথ্যগুলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ?
উ: সরকারি চাকরির রিজিউমেতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ দক্ষতাগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক। পাশাপাশি, আপনার ভাষা দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান এবং যেকোনো পুরস্কার বা সম্মাননা থাকলে তা যোগ করলে প্রার্থিতার গুরুত্ব বাড়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যগুলো যেন সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক হয়, যাতে নিয়োগকর্তা সহজেই আপনার যোগ্যতা বুঝতে পারেন।
প্র: পাবলিক ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে আবেদন করার সময় রিজিউমেতে কী ধরনের শব্দচয়ন ব্যবহার করা উচিত?
উ: পাবলিক ম্যানেজমেন্ট সেক্টরে আবেদন করার সময় রিজিউমেতে প্রফেশনাল এবং স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, “পরিচালনা করেছি”, “পরিকল্পনা করেছি”, “দলগত কাজের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছি” এর মতো শব্দগুলো প্রাধান্য দিন। অতিরিক্ত জটিল বা অপ্রাসঙ্গিক শব্দ এড়ানো ভালো, কারণ নিয়োগকর্তারা দ্রুত ও সহজে আপনার দক্ষতাগুলো বুঝতে চান। আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর শব্দচয়ন অনেক সময় আবেদনকারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে।
প্র: রিজিউমেতে ছোটখাটো ভুল এড়াতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?
উ: রিজিউমে প্রস্তুতির সময় ছোটখাটো ভুল এড়াতে প্রথমেই ভালো করে প্রুফরিড করা জরুরি। নিজের কাজ শেষ করে কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আবার রিজিউমে পড়া উচিত। যদি সম্ভব হয়, একজন বিশ্বস্ত বন্ধু বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছেও দেখানো ভালো, কারণ তারা ত্রুটি ধরতে পারে যা আপনি মিস করেছেন। এছাড়া, ফরম্যাটিং ঠিক রাখা, বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষা করা এবং তথ্যগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন নিজে রিজিউমে প্রস্তুত করেছিলাম, এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলার ফলে অনেক ভুল এড়াতে পেরেছিলাম যা আমার আবেদনকে অনেক বেশি পেশাদার করে তুলেছিল।






